ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চলতি অর্থবছরেই শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরেই শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে চীনের কারিগরি সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেট আলোচনায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের উপকারের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা এবং অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়ে চীন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যাও বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, গত চার মাসে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়া একটি পরিবারের উদাহরণ সরকারের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে। তার মতে, এই কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের প্রবণতাও বাড়াচ্ছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়নের পর বর্তমান সংসদে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখতে সচেতন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ বাজেট ২০২৬-২৭ তিস্তা প্রকল্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চলতি অর্থবছরেই শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে চীনের কারিগরি সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেট আলোচনায় পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের উপকারের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা এবং অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়ে চীন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যাও বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে ২৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, গত চার মাসে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না, বরং কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, গ্রামীণ যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়া একটি পরিবারের উদাহরণ সরকারের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে। তার মতে, এই কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের প্রবণতাও বাড়াচ্ছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দমন-পীড়নের পর বর্তমান সংসদে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখতে সচেতন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ