বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও একাডেমিক সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের আমন্ত্রণে ক্যাম্পাস পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
পরিদর্শনকালে প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন উপাচার্য। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পার হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এখনো ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণাঙ্গ অডিটোরিয়াম নেই। পাশাপাশি একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও পাকা সড়কের তীব্র সংকট রয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, মাত্র ৫০ একর আয়তনের ক্যাম্পাসের জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) অনুমোদন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে নতুন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল নির্মাণ এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ৫০ একর থেকে ১০০ একরে উন্নীত করার দাবি যৌক্তিক। পর্যাপ্ত জমি পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, “তোমাদের সংকট সমাধানে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৫ বছরেও কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মনোভাব প্রশংসনীয়। বর্তমানে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী হয়তো নতুন অবকাঠামোগত সুবিধার পুরো সুফল পাবেন না, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।