দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয়, বাস্তবায়নের গতি ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর কৌশল নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ব্যয় ও দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এদিনের অধিবেশন বিকেল ৩টায় শুরু হয়।ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার উন্নয়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ সাকি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিপুলসংখ্যক চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প পর্যালোচনা শুরু করেছে। সরকারের মূল্যায়নে দেখা গেছে, অতীতে অনেক প্রকল্প সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়াই আলাদাভাবে নেওয়া হয়েছিল। এতে একই ধরনের কাজ একাধিক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়া, বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4598]তিনি জানান, নতুন প্রকল্প অনুমোদন থেকে কার্যাদেশ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লাগার প্রবণতা কমাতে সরকার বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করছে। প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প না নিয়ে চলমান প্রকল্পের আওতায় সংশোধনের মাধ্যমে জরুরি কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতেও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে একাধিক জেলা বা অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে যাওয়ার কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা উপজেলাগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫সহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ সাকি বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যের পরিবর্তন প্রকল্প ব্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পরিকল্পনা কমিশনে প্রতিটি ব্যয়ের খাত যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিটের মতো আন্তর্জাতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4597]অন্যদিকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার আগে নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে ভারতকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়েও চীনের সঙ্গে কারিগরি কাজ এগোচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও কারিগরি দিক মূল্যায়নে সম্মত হয়। চীনও তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং তিস্তার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় কূটনৈতিক ও কারিগরি উভয় পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।