২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পর্বই শুরায়ী নেজামের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ এবং টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি। দুটি পর্বই শুরায়ী নেজামের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে শুরায়ী নেজামের মুরব্বিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আজ সাদপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে নিয়োজিত সাথীদের ওপর হামলার পর সাদপন্থিদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল, ওই বছরই টঙ্গী মাঠে তাদের শেষ ইজতেমা হবে এবং পরবর্তী সময়ে তারা সেখানে আর ইজতেমা করবে না। তবে বর্তমানে তারা সেই অবস্থান অস্বীকার করে আবারও টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে ইজতেমা করার দাবি জানাচ্ছে।
সাদপন্থিদের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুরায়ী নেজামের দুই পর্বের ইজতেমার যৌক্তিক সময় পার হওয়ার পর রমজান মাসের আগে অথবা দুই পর্বের আগেই, অর্থাৎ নভেম্বর মাসে, এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করতে চায় সাদপন্থিরা।
তিনি বলেন, ‘সাদপন্থীরা জানানো হয়েছে, অন্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা উভয় পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছি।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধের চিত্র অনেক ভালো। ছিনতাইয়ের প্রবণতাও কমেছে।’
পুলিশের অভ্যন্তরে সরকারের কাজে অসহযোগিতাকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের শনাক্ত করতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি চালু রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করা হবে।
মন্তব্যসমূহ