ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আর্কাইভ দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন এল সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন এল সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও বহুল প্রতীক্ষিত মিশিগান সিনেট আসনের ভোট গণনায় শক্ত ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আব্দুল এল-সায়েদ। ভোট গণনার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ৪১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের বিজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে উচ্চকক্ষ সিনেটে নির্বাচিত ‘প্রথম মুসলিম সিনেটর’ হিসেবে নাম লিখিয়ে অনন্য এক ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছেন।মার্কিন গণমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ভোটের আনুমানিক ৭০ শতাংশ গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে এল-সায়েদ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৪ ভোট, যা গণনাকৃত মোট ভোটের প্রায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৬ লাখ ৫ হাজার ৭০৭ ভোট (৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ)। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি হওয়ায় মার্কিন শীর্ষ গণমাধ্যম ও নির্বাচন বিশ্লেষকেরা ইতিমধ্যে এই আসনে আব্দুল এল-সায়েদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছে।তবে সিনেট নির্বাচনে এল-সায়েদের এই ঐতিহাসিক জয়ের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। দলীয় প্রাইমারিতে জয় পেয়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর থেকেই তাঁকে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে তাঁরই দলের কংগ্রেসওম্যান হেলি স্টিভেনস প্রকাশ্যে তাঁর বিরোধিতা করে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। প্রাইমারিতে এল-সায়েদের কাছে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই স্টিভেনস এই নজিরবিহীন দলবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহেও বিচলিত না হয়ে উজ্জীবিতভাবে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন এল-সায়েদ।নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিরোধী শিবির তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটাক্ষ চালায়। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে তাঁকে ‘জঙ্গি’ ও ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিদ্বেষ ছড়ান। তবে এসব উসকানির জবাবে এল-সায়েদ বরাবরই মিশিগানের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা বলে সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করেন। এক নির্বাচনী ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আমি কেবল একজন মুসলিম সিনেটর হতে নির্বাচনে দাঁড়াইনি, বরং মিশিগানের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই লড়াই করছি।”উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতি দুই বছর পর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে মধ্যবর্তী ভোট অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার হলো ৫০টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৫৩টি আসন পেয়ে উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকলেও ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভয়াবহ ভরাডুবিতে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। স্মরণীয় এই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে অন্তত ৫৪টি আসন নিশ্চিত করে সিনেটে একচ্ছত্র ও শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধার করেছে।


টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর নির্বাচিত হলেন জিনা হিনোজোসা

টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর নির্বাচিত হলেন জিনা হিনোজোসা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বহু দশকের অপরাজেয় দুর্গ টেক্সাসে অবিস্মরণীয় এক রাজনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। অর্ধ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেকর্ড অর্থব্যয় ও ধনকুবেরদের প্রভাবকে গুঁড়িয়ে দিয়ে মার্কিন সিনেট এবং গভর্নর পদ—উভয় শীর্ষ আসনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি।রাজ্যের রাজধানী অস্টিনে দেওয়া বিজয় ভাষণে নবনির্বাচিত সিনেটর জেমস তালারিকো ঘোষণা করেন, “আমরা এইমাত্র টেক্সাস পুনরুদ্ধার করলাম। আমরা প্রমাণ করলাম যে, পৃথিবীর সমস্ত অর্থও টেক্সাসের সাধারণ মানুষের ইচ্ছার কাছে কিছুই নয়।” বিভাজনের বিরুদ্ধে ভালোবাসার রাজনীতির জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক রায় দেশের শতকোটিপতি, ট্রিলিয়নিয়ার মহাদাতা এবং ভেঙে পড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্নীতিগ্রস্ত রক্ষকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল জনগণের হাতেই থাকে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠিত সিনেটরদের বাদ দিয়ে কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পক্ষে ধনকুবের ইলন মাস্ক একাই অন্তত ২১২ মিলিয়ন (২১ কোটি ২০ লাখ) ডলার ব্যয় করেছিলেন। টেক্সাসে সদর দপ্তর থাকা স্পেসএক্স-এর কর্ণধার মাস্ক দেশজুড়ে এই নির্বাচনে বিপুল অর্থ ঢেলেছিলেন, কারণ ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তাঁর প্রস্তাবিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সংসদীয় তদন্ত শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল। তবে রেকর্ড ভাঙা অর্থ ঢালার পরও প্যাক্সটন দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ন্যূনতম উদ্দীপনা তৈরি করতে ব্যর্থ হন। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিজয় উৎসবে অংশ নিয়ে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ক্রিশ্চিয়ান মেনেফি বলেন, টেক্সাস আজ পুরো আমেরিকান জাতির কাছে একটি নতুন আশা পুনরুদ্ধার করেছে।এদিকে সিনেটের পাশাপাশি গভর্নর পদেও তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব নতুন ইতিহাস। সব জনমত জরিপ ও শেষ মুহূর্তের পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। টেক্সাসের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ ল্যাটিনো হওয়া সত্ত্বেও এর আগে কোনো ল্যাটিনা নারী এই পদে পৌঁছাতে পারেননি।বিজয়ী ভাষণে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হিনোজোসা। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিচালক আলেজান্দ্রা পেইমবার্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, এই ফল বিদায়ী গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দীর্ঘ ১০ বছরের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে জনগণের এক তীব্র চপেটাঘাত। অ্যাবট ট্রাম্পের গণ-নির্বাসন অভিযানকে অন্ধভাবে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশ দিয়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং অভিবাসী পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে তুলেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, টেক্সাসের শীর্ষ আসনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো ‘পুতুল গভর্নর’ আর বসে থাকবে না।বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের উগ্র রক্ষণশীল নীতি, গর্ভপাতের অধিকার খর্ব, দারিদ্র্য ও কর্পোরেট তোষণনীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, তারই প্রতিফলন ঘটেছে এবারের ব্যালটে। তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে শীর্ষ ধনীদের প্রভাবকে পেছনে ফেলে টেক্সাস এক যুগান্তকারী নীল তরঙ্গে নতুন যুগে প্রবেশ করল।সূত্র:  আল জাজিরা


নিউইয়র্ক সিনেট নির্বাচনে জয়ী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

নিউইয়র্ক সিনেট নির্বাচনে জয়ী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে অনন্য এক জোড়া ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত অধিকারকর্মী আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত নারী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিপক্ষকে বিপুল ব্যবধানে ধরাশায়ী করেন কাওয়াস। আসনের মোট ৯০ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষেই দেখা যায়, তিনি একাই মোট প্রদত্ত ভোটের ৭৫ শতাংশ সমর্থন নিশ্চিত করেছেন, যার ভিত্তিতে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে।নির্বাচনি প্রচারণায় কাওয়াসের মূল স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন নেটওয়ার্ক, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের অর্থায়ন বন্ধের মতো প্রগতিশীল দাবিগুলো সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালাইব।সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখার আগে দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিক, অভিবাসী ও মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে একজন আপসহীন মাঠপর্যায়ের সংগঠক হিসেবে লড়াই করেছেন কাওয়াস। বিশেষ করে নিউইয়র্কের কিছু অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রমে গোপন অর্থায়ন বন্ধ করার আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস সবসময়ই মার্কিন প্রান্তে প্রান্তিক অভিবাসী সুরক্ষায় সোচ্চার ছিলেন। নির্বাচিত হলে তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী বিতর্কিত সংস্থা আইসিই (ICE)-এর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সব ধরনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের অংশ হিসেবে তিনি এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত তীব্র বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; ওই কর্মসূচি থেকে নিউইয়র্ক পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে আন্দোলনের চাপে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।সূত্র: মিডল ইস্ট আই 


ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ডেমোক্রেট অ্যামি অ্যাক্টন

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ডেমোক্রেট অ্যামি অ্যাক্টন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে সরাসরি পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। দীর্ঘ ২০ বছর পর এই প্রথম ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান দুর্গ হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে ড. অ্যাক্টন ওহাইওর ইতিহাসে গভর্নর পদে নির্বাচিত প্রথম নারী হিসেবে অনন্য এক মাইলফলক স্থাপন করলেন।উল্লেখ্য, বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের অন্যতম প্রভাবশালী ও আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন উদ্যোক্তা বিবেক রামাস্বামী। নির্বাচনি প্রচারণার শেষভাগে রামাস্বামীর পক্ষে এমন একটি বিতর্কিত আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হয়েছিল, যেখানে অ্যাক্টনের সঙ্গে দীর্ঘকাল সম্পর্কহীন থাকা তাঁর গর্ভধারিণী মাকে দিয়ে তাঁর চরম সমালোচনা করানো হয়। অথচ কয়েক দশক আগেই অ্যাক্টনের মা সন্তানদের অভিভাবকত্ব হারিয়েছিলেন, কারণ শৈশবে সৎবাবার হাতে অ্যাক্টনের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় শিবিরের জ্যেষ্ঠ নেতারাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যার মধ্যে ওহাইওর বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনও ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ওহাইওর বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সেই বিজ্ঞাপনের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন। নির্বাচনি প্রচারণায় রামাস্বামী শিবিরের বিপুল অর্থব্যয়ের কারণে অ্যাক্টনকে পদে পদে তীব্র আর্থিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কও রামাস্বামীর সমর্থনে গঠিত একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিতে (প্যাক) অন্তত ৫০ লাখ ডলার অনুদান প্রদান করেছিলেন।বিপরীতে, পেশায় একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং করোনা মহামারিকালে ওহাইওর স্বাস্থ্য বিভাগের সফল সাবেক পরিচালক অ্যামি অ্যাক্টন প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস ও স্বাস্থ্যসেবায় সার্বজনীন অধিকার প্রতিষ্ঠা। ওহাইওর শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোটারদের আস্থা অর্জনে তিনি নিজের চরম দারিদ্র্যপীড়িত ও সংগ্রামের শৈশবের কথা খোলামেলা তুলে ধরেন। শৈশবে চরম গৃহহীনতার শিকার অ্যাক্টনকে এমনকি একটি হাড়কাঁপানো তীব্র শীত মৌসুমে গৃহহীন অবস্থায় তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়েছিল। অন্যদিকে ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তেও রামাস্বামী ভোটারদের প্রতি সম্পত্তি কর ও বিদ্যুৎ বিল কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে ভোট দেওয়ার এবং পরদিন থেকেই কাজের জবাবদিহি নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য নির্বাচনি রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষে মেয়াদসীমার বাধ্যবাধকতায় মাইক ডিওয়াইন গভর্নর পদ থেকে অবসরে যাওয়ার ক্ষণে ভোটাররা রামাস্বামীর বদলে অ্যাক্টনের ওপরই ভরসা রাখলেন।এর আগে কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে ওহাইওর সর্বোচ্চ নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যামি অ্যাক্টন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই অভূতপূর্ব বিজয়ের মধ্য দিয়ে ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক খরা ও নির্বাচনি দুর্বলতার অবসান ঘটল। একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান বা সুইং স্টেটটি বিগত বছরগুলোতে ট্রাম্পের কট্টর লাল ঘাঁটিতে পরিণত হওয়ায় ডেমোক্র্যাট শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা কার্যত ওহাইও নিয়ে সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন; তবে অ্যাক্টনের এই ঐতিহাসিক জয় মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুনরায় নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।


ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয়ের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে তারা। সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও ওহাইওর মতো ঐতিহ্যবাহী কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে অবিশ্বাস্য বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চূড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দেশজুড়ে কোটি কোটি ভোটার নিজেদের ব্যালট প্রয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও নেতৃত্বের প্রতি জোরালো অনাস্থা এবং কঠোর তিরস্কার প্রকাশ করেছেন।কেনটাকি, নিউ জার্সি ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত আটটি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে ডেমোক্র্যাটরা, যার ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও এখন তাদের হাতের মুঠোয়। ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরোড ব্রাউন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করে সিনেটে ফিরে আসছেন। অন্যদিকে টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জেমস তালারিকো বাইরের বিপুল অর্থ ব্যয়ের তীব্র চাপ মোকাবিলা করে বহু কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করেছেন; অথচ মাত্র দুই বছর আগে ওহাইও ও টেক্সাস উভয় রাজ্যেই ডাবল-ডিজিটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে সাউথ ক্যারোলাইনায়, যেখানে ২০২৪ সালে ট্রাম্প প্রায় ১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেখানে শিশু বিশেষজ্ঞ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুস বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহামকে সরাসরি পরাজিত করেছেন, যিনি তাঁর ভাই সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের মৃত্যুর পর এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। স্পষ্ট সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অনভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠিত শীর্ষ নেতাদের বাদ দিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগত আনুগত্যের কারণে প্যাক্সটন ও গ্রাহামকে মনোনয়ন দিয়ে জোর সমর্থন জানিয়েছিলেন।নির্বাচনী প্রচারণার শেষভাগে দুই ডজনেরও বেশি সমাবেশ করে ট্রাম্প প্যাক্সটন, গ্রাহাম ও হাস্টেডের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বারবার বলেছিলেন, তাঁরা যেন ভাবেন ব্যালটে খোদ ট্রাম্পই আছেন। তবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাতে রিপাবলিকানদের নিশ্চিত পরাজয় স্পষ্ট হতে শুরু করলে সুর বদলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে তিনি ব্যালটে ছিলেন না এবং থাকলে দল ভূমিধস জয় পেত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনীতি পরিচালনা এবং বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর সিদ্ধান্তের প্রতি জনগণের চরম অসন্তোষের প্রতিফলন, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপারের সিনেট জয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চারটি প্রধান আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে ডেমোক্র্যাটরা। এ ছাড়া তুমুল লড়াইয়ের আভাস থাকলেও জর্জিয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে সিনেট আসন অক্ষুণ্ন রেখেছে দলটি। বিজয়ের পর জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ এক সমাবেশে বলেন, আমেরিকান জনগণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতি, বিকৃতি ও অক্ষমতাকে ব্যালটের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডি মাত্র ৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেলেও ২০২৪ সালে ট্রাম্পের ১৩ পয়েন্ট ব্যবধানের তুলনায় তা ধসের শামিল। এমনকি ফ্লোরিডার নতুন সীমানা নির্ধারিত হাউস ডিস্ট্রিক্টগুলোতেও তিনটি আসন নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে ডেমোক্র্যাটরা। সংবাদমাধ্যম কনসোর্টিয়াম ও এসএসআরএস-এর বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেক ভোটার এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে দেখেছেন এবং ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতার ওপর কংগ্রেশনাল ভারসাম্য (চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স) প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। এদিকে সম্ভাব্য কারচুপির দাবি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার সমালোচনার মধ্যেই মার্কিন বিচার বিভাগ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ১,০০০ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও নিরীক্ষক মোতায়েন করে। তবে সার্বিক কড়াকড়ি ও পর্যালোচনার মধ্যেও নিউ মেক্সিকোর একটি কাউন্টিতে ফেডারেল পর্যবেক্ষকদের অস্বাভাবিক প্রশ্ন করার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই শেষ হয়েছে।সূত্র:  রয়টার্স 


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক মন্ত্রী লিউয়ের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক মন্ত্রী লিউয়ের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।বৈঠকে লিউ হাইশিং উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার আলোকে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ পারস্পরিক সহযোগিতার সব ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। লিউ হাইশিং স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বেইজিংয়ের সক্রিয় সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিক অগ্রযাত্রার উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতি পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী সময়ে। দীর্ঘদিন ধরে উভয় দেশের সাধারণ জনগণের হৃদয়ে এই সম্পর্কের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান রয়েছে। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফল চীন সফরের পর বাংলাদেশে জনবান্ধব খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যা দেশের কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও খননের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সরকারিভাবে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগে গতি আনতে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নের রূপরেখা এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসেপ বা RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের নীতিগত সমর্থনের কথা জানান তিনি।আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানরত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, জনমিতি ও সামগ্রিক পরিবেশের ওপর সৃষ্ট তীব্র চাপের চিত্র বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং এই সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং জানান, রোহিঙ্গা সংকটের বহুমাত্রিক অভিঘাত সম্পর্কে বেইজিং পুরোপুরি ওয়াকিবহাল এবং তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গভীর উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের মুখে নতুন সংকটে ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের মুখে নতুন সংকটে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয় ও পরাজয়ের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। এই নির্বাচন কেবল ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর কীভাবে পরিচালিত হবে তার চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণী নিয়ামক। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রাম্পের সামনে অপেক্ষা করছে কংগ্রেসীয় তদন্ত, তীব্র রাজনৈতিক চাপ, নথিপত্র তলবে সমন এবং এমনকি তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) নতুন সাংবিধানিক ঝুঁকি।মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এসব তদন্তের আওতায় আসবে নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ব্যবসা, জেফরি এপস্টেইনের নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়, করপোরেট দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেসরকারি স্বার্থান্বেষী মহলের গোপন আঁতাত। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের একাংশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিশংসন প্রস্তাব আনার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।নির্বাচনের এই সম্ভাব্য পরাজয়ের নেতিবাচক প্রভাব কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রভাব অনেকটাই সংকুচিত করে তুলবে। কারণ, ট্রাম্প নিজেই পুরো নির্বাচন প্রচারণাকে নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার অগ্নিপরীক্ষায় রূপ দিয়েছিলেন এবং সমর্থকদের বারবার তাগিদ দিয়ে বলেছিলেন যেন তাঁরা ভাবেন খোদ ট্রাম্পই ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে আছেন। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল নিজের ক্যারিশমা সামনে রেখে সেইসব কট্টর রক্ষণশীল ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসা, যারা অন্য কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর জন্য ভোটকেন্দ্রে আসতেন না। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই কৌশলকে উল্টো অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। তাদের মতে, ট্রাম্প নিজেকে সামনে রাখায় ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের জন্য সরাসরি কে দায়ী, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যান্ডি কিম মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প সবাইকে তাঁর কথা ভাবতে বাধ্য করেছেন এবং জনগণ এখন তিনি সরাসরি মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি করেছেন তা নিয়ে বিচার করছে।কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও পুরোপুরি অবগত। কারণ, তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষ দুই বছরও ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংঘাত ও তদন্তের মধ্য দিয়েই পার হয়েছিল। তবে ট্রাম্প কখনোই বিরোধীদের চাপকে হালকাভাবে নেওয়া বন্ধ করেননি। তিনি রাজনৈতিক সমাবেশগুলোতে নিজেই সতর্ক করে বলেছেন যে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই তাঁকে পুনরায় অভিশংসিত করার উদ্যোগ নেবে। যদিও বিরোধীদের আক্রমণকে ট্রাম্প সবসময় নিজের রাজনৈতিক সমর্থন জোরালো করা এবং অনুদান সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবেও সফলভাবে ব্যবহার করে থাকেন।ইতিমধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা তাদের তদন্তের অগ্রাধিকার তালিকা চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি কমিটির সম্ভাব্য প্রধান ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতা রবার্ট গার্সিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি অভিবাসন নীতি ও বন্দিশালাগুলোর ওপর কঠোর তদারকি করবেন। কোনো ধরনের আগাম বার্তা ছাড়াই তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে আইসিই-এর যেকোনো অসংগতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকলে ডেমোক্র্যাটরা স্থায়ী কমিটি, বাজেট বরাদ্দ, নিজস্ব তদন্তকারী দল এবং বাধ্যতামূলক সমন (Subpoena) জারির পূর্ণ কর্তৃত্ব পাবে, যার মাধ্যমে প্রশাসনের কাছ থেকে যে কোনো স্পর্শকাতর নথি ও ব্যক্তিগত সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা সম্ভব হবে।পাল্টা হিসেবে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। প্রথম মেয়াদের মতোই তারা নথি প্রদান বিলম্বিত করা এবং ‘এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ’ বা নির্বাহী বিভাগের বিশেষ আইনি অধিকার দাবি করে তদন্তকে শ্লথ করার কৌশল গ্রহণ করতে পারে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প তাঁর রাষ্ট্রপতির ভেটো ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে এমন অচলাবস্থা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধীদের সঙ্গে আপস আলোচনায় বসতে হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে হাকিম জেফ্রিস যদি স্পিকার নির্বাচিত হন, তবে তিনি ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখোমুখি করতে পারেন, যদিও প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েও সিনেটে খালাস পেয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদেরও ডেমোক্র্যাটরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত সামরিক ভূমিকা ও ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তদন্তের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে জেফ্রিস হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পর তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে পিট হেগসেথকে ওয়াশিংটন ছাড়া করা।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে নিজের অস্ত্রে এসআইয়ের আত্মহত্যা: পুলিশ সুপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে নিজের অস্ত্রে এসআইয়ের আত্মহত্যা: পুলিশ সুপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা পুলিশ ক্যাম্পে নিজের নামে ইস্যু করা সরকারি পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জাহাঙ্গীর আলম (৫২) নামের এক উপপরিদর্শক (এসআই)।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ কক্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম সশস্ত্র উপপরিদর্শক হিসেবে আশুগঞ্জ সার কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা পাহারায় নিয়োজিত পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পূর্ব খাবাশপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাঁর বাবার নাম মৃত আলী আকবর তালুকদার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম এ ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসার গণমাধ্যমকে জানান, সার কারখানার সুরক্ষায় ক্যাম্পটিতে নিয়মিত ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্যের একটি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। নিহত এসআই জাহাঙ্গীর আলমও ওই নিরাপত্তা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সকালে হঠাৎ গুলির শব্দ পাওয়ার পর প্রাথমিক তথ্যে জানা যায় যে তিনি নিজের সরকারি অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র পারিবারিক কলহ বা ব্যক্তিগত মানসিক অবসাদের জেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। যাবতীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।


পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।পূর্বনির্ধারিত সময় আজ (বুধবার) বিকেল ৩টার পরিবর্তে সভাটি ৪ ঘণ্টা এগিয়ে বেলা ১১টায় শুরু হয়েছে।শ্রমিকদের টানা আন্দোলন, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সভার সময় এগিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত সভার নোটিশে।মজুরি বোর্ডের সচিবের স্বাক্ষরে প্রকাশিত সংশোধিত নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর ন্যূনতম মজুরির হার সুপারিশ করার লক্ষ্যে বোর্ডের প্রথম সভা আজ ৪ নভেম্বর, বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।বোর্ডের চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে।এর আগে জারি করা সূচিতে সভার সময় বিকেল ৩টা নির্ধারণ করা হয়েছিল।জানা গেছে, আজকের সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে সদস্যদের পরিচয় ও পরিচিতি, গার্মেন্টস শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রণয়ন এবং বিবিধ বিষয়।


ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল প্রয়োগ করে ইরানকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখে শত্রুরা মূলত ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) ইরানের জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে স্পিকার গালিবাফ এই বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও বৈরিতার মূল কারণ হলো দেশটির জনগণের আপসহীন প্রতিরোধ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানসিকতা।ইরানি স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানকে গ্রাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সুযোগ পেলেই তারা সেই অভিসন্ধি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে। একসময় তারা অনুগত ও পদলেহী তাঁবেদার শাসকদের মাধ্যমে ইরানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু বর্তমান যুগে ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণের শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা এখন সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বহুমাত্রিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, ইরানিদের এই স্বাধীনতা ও সাহসিকতা সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত জাতিগুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণার প্রতীকে রূপ নিয়েছে।গালিবাফ আরও বলেন, ইরানি জনগণের অনমনীয় অবস্থান দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ওয়াশিংটনকে সম্পূর্ণ দিশেহারা করে তুলেছে। ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার পর তারা মাঝেমধ্যেই সামরিক হামলার ভয় দেখিয়ে তেহরানকে নতজানু করার চেষ্টা করে। তবে অতীতে পরাধীন যুগের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন হওয়া ইরান কখনো কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে মাথা নত করবে না।সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, চাপিয়ে দেওয়া দুটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের খবরদারির দিন শেষ হয়ে এসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনায় সম্ভাব্য সব ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশল ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে কোনো প্রকার ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করে এমন এক সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা তাদের ধারণারও বাইরে। গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের প্রতিটি যোদ্ধা ট্রিগারে আঙুল রেখে সার্বক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে, তবে সংঘাত পরিহারের একটি শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত বার্তাও ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে; ফলে এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর পূর্ণ দায়িত্ব তাদেরই।


গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: বিক্ষোভে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: বিক্ষোভে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের

গাজীপুরে তৌফিক নামের এক সহকর্মী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর-বাংলাবাজার সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এ্যাপিলিয়ন গার্মেন্টসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে লায়লা স্টাইলস লিমিটেড কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার সাধারণ শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে মিছিলটি বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছালে মিছিলকারীদের সঙ্গে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) নিক্ষেপ করেন। এতে বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের গুরুতর অভিযোগ, মিছিল চলাকালে বহিরাগতরা আকস্মিকভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাঁদের মধ্য থেকে গুরুতর কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের কর্মী মনোয়ার হোসেন জানান, আগের দিন তাঁদের এক সহকর্মী মারা যাওয়ার ঘটনায় শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়েছিল, কিন্তু বহিরাগতরা মিছিলে বাধা দেয় এবং কয়েকজন শ্রমিককে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। মনিরা নামের অপর এক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতরা এসে শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করেছে এবং এরপর পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির গণমাধ্যমকে জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছেন। তবে বহিরাগতদের কোনো মারধরের ঘটনায় শ্রমিকেরা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।


গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: বিক্ষোভে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু: বিক্ষোভে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের

গাজীপুরে তৌফিক নামের এক সহকর্মী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর-বাংলাবাজার সড়কের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত এ্যাপিলিয়ন গার্মেন্টসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে লায়লা স্টাইলস লিমিটেড কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার সাধারণ শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে মিছিলটি বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছালে মিছিলকারীদের সঙ্গে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) নিক্ষেপ করেন। এতে বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের গুরুতর অভিযোগ, মিছিল চলাকালে বহিরাগতরা আকস্মিকভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। তাঁদের মধ্য থেকে গুরুতর কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের কর্মী মনোয়ার হোসেন জানান, আগের দিন তাঁদের এক সহকর্মী মারা যাওয়ার ঘটনায় শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়েছিল, কিন্তু বহিরাগতরা মিছিলে বাধা দেয় এবং কয়েকজন শ্রমিককে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। মনিরা নামের অপর এক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতরা এসে শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করেছে এবং এরপর পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নিয়াজ শিশির গণমাধ্যমকে জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছেন। তবে বহিরাগতদের কোনো মারধরের ঘটনায় শ্রমিকেরা আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর কাছে তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।


জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাই সিং। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধিসৌধে যান চীনা মন্ত্রী। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন লিউ হাই সিং। শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব শেষে তিনি সমাধিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে (স্মৃতিবই) স্বাক্ষর করেন।সমাধি চত্বরে চীনা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব এবং কূটনৈতিক সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এবং মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা নিবেদনের এই পর্বে অংশ নেন।উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান লিউ হাই সিং। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আজ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে এই চীনা প্রতিনিধির।


ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

ট্রাম্পের ক্ষমতায় বড় ধাক্কা, হারাল কংগ্রেসের দুই কক্ষই

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রেকর্ড পরিমাণ অজনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই পুনরুদ্ধার করতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তাঁর প্রশাসনের সার্বিক নীতি ও কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া আইনি নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সরাসরি ক্ষমতা অর্জন করল ডেমোক্র্যাটরা।ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের কয়েক দশকের সুরক্ষিত দুর্গে অভাবনীয় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হেরে যাওয়া সাউথ ক্যারোলাইনায় সিনেট আসন দখল করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো টেক্সাসের মতো কট্টর লাল রাজ্যে জয় পেয়েছে দলটি। এর চেয়েও বড় ঐতিহাসিক চমক এসেছে কানসাসে, যেখানে ১৯৩২ সালের পর দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীতে এই প্রথম কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। এছাড়া ওহাইও ও আইওয়াতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে গত ৫০ বছরের মধ্যে একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে বিরোধী দলের হাতে চলে যাওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা এর আগে ঘটেছে মাত্র দুবার।সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্কনীতি, ইরান সংঘাত এবং তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে ভোটারদের তীব্র ক্ষোভ রিপাবলিকানদের পতনের মূল কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। ভোটার জরিপ অনুযায়ী, দশজনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন তাঁর ভুল নীতির কারণেই মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের মাত্র তিনটি অতিরিক্ত আসন প্রয়োজন থাকায় তাদের জয় প্রত্যাশিত হলেও, ট্রাম্পের বিপুল ব্যবধানে জয়ী রাজ্যগুলোতে সিনেট আসন ছিনিয়ে নেওয়া এই বিজয়কে বিরল মর্যাদায় উন্নীত করেছে।চূড়ান্ত ভোট গণনা অব্যাহত থাকলেও এটি স্পষ্ট যে উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করছে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিনেটে অধিকাংশ বিল পাসে ৬০ ভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলেই সব পছন্দের আইন পাস করাতে পারবে না। তবে দুই কক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আসায় হোয়াইট হাউসের নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো, সাক্ষীদের তলবে সমন জারি করা এবং ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া সরাসরি আটকে দেওয়ার একচ্ছত্র সাংবিধানিক ক্ষমতা পেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে কোনো পদ শূন্য হলে সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত পছন্দের বিচারক নিয়োগও এখন পুরোপুরি অবরুদ্ধ করতে পারবে বিরোধীরা।সূত্র: রয়টার্স


সচিবালয়ে ১০ টাকার বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর

সচিবালয়ে ১০ টাকার বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারক ডাকটিকিট ও একটি বিশেষ উদ্বোধনী খাম উন্মোচন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।উপ-প্রেস সচিব জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১০ টাকা মূল্যমানের একটি দৃষ্টিনন্দন স্মারক ডাকটিকিট এবং একটি উদ্বোধনী খাম আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করেন।অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মার্কিন ভোটারদের জরিপ থেকে যা জানা গেছে

মার্কিন ভোটারদের জরিপ থেকে যা জানা গেছে

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে প্রকৃত ভোটারদের ওপর পরিচালিত জাতীয় জরিপের প্রথম দফার তথ্য বিশ্লেষণে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি অত্যন্ত নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। স্বনামধন্য গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস পরিচালিত এই জাতীয় সমীক্ষার ফলাফল গত কয়েক মাসে প্রকাশিত প্রধান প্রধান জনমত জরিপের পূর্বাভাসকেই জোরালোভাবে সমর্থন করছে। এতে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের মানসিকতায় তীব্র হতাশা কাজ করছে এবং তাঁদের উদ্বেগের তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দুর্নীতি।জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়নে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। তাঁর প্রতি সমর্থনের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ শতাংশে, যেখানে নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার। জনমত জরিপগুলোর ইতিবাচক ইঙ্গিত নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল, বাস্তব ভোটের এই চিত্র আপাতত তাদের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভোটারদের অর্থনৈতিক মূল্যায়নে স্পষ্ট হয়েছে যে, সাধারণ মার্কিনীরা অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে অত্যন্ত হতাশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিগুলো দেশের পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি দশজনের মধ্যে চারজনেরও বেশি স্পষ্ট করেছেন যে দুই বছর আগের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা কমেছে। একই সঙ্গে প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন নাগরিক গ্যাসোলিন, পেট্রোল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি বৈশ্বিক বা বাহ্যিক কারণের চেয়ে খোদ ট্রাম্পের প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্ত ও নীতিগুলোকেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন দশজনের মধ্যে ছয়জন।অর্থনীতির বাইরে ভূরাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে কঠোর মনোভাব দৃশ্যমান হয়েছে। প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন মারাত্মক ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটারের দাবি, কংগ্রেস নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ইরান সংঘাত অন্যতম প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া রেকর্ড ৯০ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, সরকারি দুর্নীতি রোধের বিষয়টি তাঁদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ছিল। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) বর্তমান বিতর্কিত কার্যক্রমকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার। তবে সার্বিক ক্ষোভের মধ্যেও ইতিবাচক দিক হলো, দেশটির সিংহভাগ ভোটার আস্থা প্রকাশ করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠু, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে।সূত্র: বিবিসি


শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী

৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা

শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে হবে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে হবে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কাল উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কাল উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসে ৫ আলেম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসে ৫ আলেম

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও মাওলানা সাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও মাওলানা সাদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে ডেকে বন্ধুকে হত্যা, ইজতেমা ময়দানের ড্রেনে মিলল লাশ

চাকরির প্রলোভনে টঙ্গীতে ডেকে বন্ধুকে হত্যা, ইজতেমা ময়দানের ড্রেনে মিলল লাশ

মহম্মদপুরে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মর্মান্তিক মৃত্য

মহম্মদপুরে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মর্মান্তিক মৃত্য

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: জামিন পেলেন না সাবেক এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: জামিন পেলেন না সাবেক এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন

জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল

জবি মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে আরিফুল-শাকিল

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন এল সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন এল সায়েদ

টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর নির্বাচিত হলেন জিনা হিনোজোসা

টেক্সাসের প্রথম ল্যাটিনা গভর্নর নির্বাচিত হলেন জিনা হিনোজোসা

নিউইয়র্ক সিনেট নির্বাচনে জয়ী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

নিউইয়র্ক সিনেট নির্বাচনে জয়ী ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ডেমোক্রেট অ্যামি অ্যাক্টন

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ডেমোক্রেট অ্যামি অ্যাক্টন

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট জয়, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ লাভ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক মন্ত্রী লিউয়ের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক মন্ত্রী লিউয়ের সাক্ষাৎ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের মুখে নতুন সংকটে ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের মুখে নতুন সংকটে ট্রাম্প

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে নিজের অস্ত্রে এসআইয়ের আত্মহত্যা: পুলিশ সুপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে নিজের অস্ত্রে এসআইয়ের আত্মহত্যা: পুলিশ সুপার

পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

পোশাক শিল্পের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ