প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অতিরিক্ত সামরিক সদস্য মোতায়েন, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘বন্ধুদের’ সহায়তায় পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—জীবন রক্ষা করা এবং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।” তিনি আরও বলেন, “যখন আমাদের বন্ধুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার জন্য ভেনেজুয়াকে ১৫ কোটি ডলার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিও বাড়ানো হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা সদস্য, একটি উভচর পরিবহন জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাউথকমের ভাষ্য, এসব বাহিনী ভেনেজুয়ায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মী, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করা মার্কিন সংস্থাগুলোকে সহায়তা করবে।
তবে এই সহায়তা কার্যক্রম এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে, যখন চলতি বছরের শুরুতে নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একই সময়ে দেশটির জ্বালানি খাত ও তেল রপ্তানি ব্যবস্থাপনায়ও ওয়াশিংটনের প্রভাব বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়ায় তাদের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করার ইঙ্গিতও বহন করছে।
সূত্র: আল জাজিরা