ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার আগে নজরদারিতে ছিল রুশ স্যাটেলাইট

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়া গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সরঞ্জাম ও সেনাদের অবস্থান সম্পর্কে ইরানকে তথ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন তথ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নির্ভুলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ২৭ মার্চের হামলাকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হন এবং একটি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান ধ্বংস হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হামলার দুই দিন আগে রাশিয়ার ‘কসমস ২৫৭৩’ গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ মোট ১৪টি রুশ স্যাটেলাইট ওই বিমানঘাঁটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। স্যাটেলাইটগুলোর গতিপথ বিশ্লেষণ করে ওই সময়ে ঘাঁটিটির ওপর রুশ মহাকাশভিত্তিক নজরদারি কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়ার বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট থেকে অপটিক্যাল ছবি সংগ্রহ, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে রাডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত এবং ইনফ্রারেড প্রযুক্তিতে তাপীয় উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাত ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও বিভিন্ন স্থাপনা ও গতিবিধি শনাক্ত করা যায়।মার্কিন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হলে কোনো সামরিক স্থাপনার অবস্থান ও সেখানে থাকা সরঞ্জাম সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব। তবে রাশিয়া সরাসরি ইরানকে এমন তথ্য সরবরাহ করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।কিং’স কলেজ লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ এই ঘটনাকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তার বিপরীতে রাশিয়ার পদক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার আগে নজরদারিতে ছিল রুশ স্যাটেলাইট