ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডারের একটি বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও জানান তিনি।[BANGVIEWS-POST:4665]তবে চুক্তির বিস্তারিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এর আওতায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস দাবি করেছেন, এর আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পেতে পারে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও দাবি করেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:4664]বিশ্বের অন্যতম বড় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্যে রয়েছে। কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়েছে। ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও জ্বালানি আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন ও উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে এই চুক্তির প্রভাব বিশ্ববাজারে কত দ্রুত পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।সূত্র: রয়টার্স