ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পানি বণ্টনে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
দুই দেশের পানি ইস্যুতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিতে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের নাম চাওয়া হয়েছে।
পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।”
ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। ভারতীয় পক্ষের জবাব পাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। এসব বিষয়ে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি। দেশের স্বার্থ রক্ষায় এই আইনি অবস্থানের পাশাপাশি জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ