ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

১৩ কোটি ভোটার গায়েব? সিইসির পদত্যাগে দিল্লিতে ধুন্ধুমার!

ভারতে জাতীয় ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে; যেখানে একদিকে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি (NDTV)-র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ রাজনৈতিক উত্তেজনার তথ্য তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিশেষ অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের অনুকূলে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ এনে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করা হয়। সেই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে রোববার ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি এই আন্দোলনে জোরদার ভূমিকা রাখছেন বামপন্থি দলগুলোর নেতা-কর্মীরা।কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল এই রাজনৈতিক আন্দোলনকে ‘চলো দিল্লি, ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজ্যের পর রাজ্যে ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন জালিয়াতি চালানো হচ্ছে এবং ১৩ কোটিরও বেশি বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে মুছে ফেলা হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন যে রাহুল গান্ধী কোনো কিছুর পরোয়া না করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিদের নির্ভীকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনছেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামলীলা ময়দান এবং দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে দিল্লি পুলিশ, সিআরপিএফ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-এর সমন্বয়ে অন্তত ১০ হাজার সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির পুলিশ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর জানিয়েছেন, গোটা এলাকা ২০০ থেকে ২৫০টি ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং আয়োজকদের নিজস্ব কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে।অন্যদিকে বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে স্রেফ ‘মেলোড্রামা’ বা রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তিনি মন্তব্য করেন, দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই সমাবেশ করা হচ্ছে।এদিকে বিরোধী শিবিরের এই কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লির হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পৃথক বড় আকারের পদযাত্রা করছে বিজেপি। এতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও সংসদ সদস্য বাঁশুরি স্বরাজসহ শীর্ষ নেতারা কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করেন।এদিকে উৎসবের এই পিক-সিজনে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে মধ্য দিল্লির ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজারগুলোতে মারাত্মক ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অটোমোটিভ পার্টস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিনয় নারং ও সাধারণ সম্পাদক ধর্মপাল রত্র জানিয়েছেন, চাঁদনি চক, সদর বাজার, দরিয়াগঞ্জ ও কাশ্মীরি গেট এলাকায় যানজট ও অচলাবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের অন্তত ২ হাজার কোটি রুপির আর্থিক লোকসান হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের স্থানীয় দোকানপাট থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার অনুরোধ জানান এবং অভিযোগ করেন যে পরাজয়ের ভয়ে বিজেপি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অর্থনৈতিক ক্ষতির গুজব ছড়াচ্ছে।সূত্র: এনডিটিভি

১৩ কোটি ভোটার গায়েব? সিইসির পদত্যাগে দিল্লিতে ধুন্ধুমার!