ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হামে মৃত শিশুদের ৯২ শতাংশই টিকা পায়নি

হামে মৃত শিশুদের ৯২ শতাংশই টিকা পায়নি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে চলতি বছর হামে মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশই হাম-রুবেলা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৫ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৩ জন মারা গেছেন। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গে হওয়া মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কলম্বোতে ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং টিকাদান কর্মসূচির নজরদারিতে দুর্বলতা এই পরিস্থিতির বড় কারণ। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে মারা যাওয়া শিশুদের মাত্র ৮ শতাংশ এই টিকার আওতায় ছিল।

সভায় উপস্থাপিত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, ২৬ শতাংশ। ২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ। ৯ থেকে ১১ মাস বয়সীদের মধ্যে ১৪ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর এবং ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ করে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪ শতাংশ এবং ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ১২ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, কলম্বোতে উপস্থাপিত তথ্য ছিল জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত। ওই তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু সাত শর বেশি হলেও টিকা না পাওয়ার হার একই রকম থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বহু শিশুকে টিকা না দিয়েও টিকা পেয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তাতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ছিল। নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোর সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

গত ২৫ জুন ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাম মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিশন সদস্যদেশগুলোর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাম নির্মূল কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ডব্লিউএইচওর মেডিক্যাল কর্মকর্তারা হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো নিয়মিত বিশ্লেষণ করা হয়।

ট্যাগ : হাম বাংলাদেশ শিশু মৃত্যু জনস্বাস্থ্য

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হামে মৃত শিশুদের ৯২ শতাংশই টিকা পায়নি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে চলতি বছর হামে মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশই হাম-রুবেলা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৫ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৩ জন মারা গেছেন। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গে হওয়া মৃত্যুকেও হামজনিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কলম্বোতে ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি এবং টিকাদান কর্মসূচির নজরদারিতে দুর্বলতা এই পরিস্থিতির বড় কারণ। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে মারা যাওয়া শিশুদের মাত্র ৮ শতাংশ এই টিকার আওতায় ছিল।

সভায় উপস্থাপিত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, ২৬ শতাংশ। ২ থেকে ৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ। ৯ থেকে ১১ মাস বয়সীদের মধ্যে ১৪ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর এবং ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ করে মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪ শতাংশ এবং ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ১২ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, কলম্বোতে উপস্থাপিত তথ্য ছিল জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত। ওই তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু সাত শর বেশি হলেও টিকা না পাওয়ার হার একই রকম থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বহু শিশুকে টিকা না দিয়েও টিকা পেয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তাতে বড় ধরনের অসঙ্গতি ছিল। নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোর সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

গত ২৫ জুন ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাম মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিশন সদস্যদেশগুলোর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাম নির্মূল কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ডব্লিউএইচওর মেডিক্যাল কর্মকর্তারা হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো নিয়মিত বিশ্লেষণ করা হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ