ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (২৮ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের উপকূলীয় স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
আল জাজিরা জানায়, বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতের চেষ্টা করছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, এসব হামলায় ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর সংযম দেখাতে না-ও পারে। প্রয়োজন হলে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ