ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
রোববার (২৮ জুন) ভোরে রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নির্দেশে বৃহত্তর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ইরাকের এলিট কাউন্টার টেররিজম সার্ভিস বা সিটিএসের সদস্যরা গ্রিন জোনে রাজনীতিক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাসভবন ও কার্যালয়ে অভিযান চালান। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
তবে এসব গ্রেপ্তার নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ইরাক সরকার।
গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। ইরাকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি বড় প্রশাসনিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আগের সরকারগুলোও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি দিলেও উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন ছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকি বিচার বিভাগ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে রোববারের অভিযান শুরু হয়। সন্দেহভাজন দুর্নীতির নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই গ্রেপ্তারের পর আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়, যা রোববার কার্যকর করা হয়েছে।
ইরাকের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক নেতা বাগদাদের গ্রিন জোনে বাসভবন বা কার্যালয় রাখেন। এই এলাকায় দেশটির পার্লামেন্ট, বিদেশি দূতাবাস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবস্থিত।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ-র বরাতে রয়টার্স জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে আটক তেল মন্ত্রণালয়ের রিফাইনিংবিষয়ক উপমন্ত্রী আদনান আল-জুমাইলির দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে সাম্প্রতিক কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতির অভিযোগে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন সন্দেহভাজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে গ্রিন জোনের প্রবেশপথ বন্ধ করে বড় পরিসরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
দুর্নীতিবিরোধী এই অভিযান আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে নিরাপত্তা ও আইন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ