সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ বিষয়ে সংসদ থেকে কোনো চিঠি ইসিতে পৌঁছায়নি।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল। তবে আইন অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি আসা প্রয়োজন। সেই চিঠি না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছেন এই সংসদ সদস্য। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পরে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।