ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে পুরোনো দিল্লির চাওরি বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা একটি ভবন ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাদিম ও জুনিয়র প্রকৌশলী আমান দালালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারায় ভবন ধসের খবর পায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ছয়টি ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরাও।
ঘটনাস্থলের সরু গলিতে ভবনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পুরোনো দিল্লির এসব গলিতে দুই পাশে যানবাহন পার্ক করে রাখার কারণে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এবারও একই সমস্যার মুখে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের গাড়ি সরিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের পথ তৈরি করে দেন। উদ্ধারকর্মীদের কয়েক মিটার হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করতে হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ নাঈম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে সবাই জেগে বাইরে ছুটে যাই। প্রথমে ভেবেছিলাম আমাদের নিজেদের বাড়ি ধসে পড়ছে। পরে গিয়ে দেখি পাশের নির্মাণাধীন বাড়িটি ধসে গেছে।’
স্থানীয় এক বাসিন্দার তথ্যমতে, ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল গত তিন থেকে চার মাস ধরে। সেখানে কেউ বসবাস করতেন না; দুর্ঘটনার সময় ভেতরে কেবল শ্রমিকেরা ছিলেন। ভবনটির মালিক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রোহিত রাজবীর সিং জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং একজন আহত হন। ভবনটির চতুর্থ তলায় নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানান তিনি। ভবন ধস শুরু হলে অধিকাংশ শ্রমিক বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
রোহিত রাজবীর সিং বলেন, ‘আর কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ভবনটির মালিকদের শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের পাশাপাশি নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর কয়েক দিন আগেও দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মিলন গার্ডেন এলাকায় একটি পুরোনো বাড়ির ওপর নতুন তলা নির্মাণের সময় দুটি ছাদ ধসে দুইজন নিহত হন। নির্মাণকাজ চলার সময় পুরোনো ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়লে ওপরের ছাদটিও ধসে যায়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন ৬০ বছর বয়সী চন্দরপাল ও ৩৩ বছর বয়সী বিজয় কুমার। পরে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া গত ৭ অক্টোবর দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় চারতলা একটি ভবন ধসে এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
সূত্র: এনডিটিভি।














মন্তব্যসমূহ