গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক ও ন্যায্য বলে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বন্ধ, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি, নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার বিচার এবং বর্ধিত মজুরি জানুয়ারি থেকে কার্যকরের দাবিসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে দলটি। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটপাটের নিন্দা জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি যৌক্তিক। তাঁর ভাষায়, ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের অধিকার।
গোলাম পরওয়ার জানান, শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে। গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখ হত্যার বিচার, আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিহত শ্রমিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে জামায়াতের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা। নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দলীয় পরিচয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বানও জানান তিনি।
আন্দোলনের মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নাশকতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ কিংবা স্বার্থান্বেষী কোনো মহল আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা-ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রতিরোধের আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
এ ছাড়া বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনর্বিবেচনা করে কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহে রেশন চালুর কথাও বলেন তিনি।
গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে শিল্পের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিল্পের সুরক্ষা একে অপরের বিরোধী নয়। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, আর শিল্প টিকে থাকলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে। তবে কারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং মালিকদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ে।
সংকট নিরসনে শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।














মন্তব্যসমূহ