ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সমর্থন না পাওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের পাশে একটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের অবস্থান নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির কট্টরপন্থী ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ঘোষণা দিয়েছে, সরকার গঠনের জন্য তারা কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন করবে না। একই দিনে আরব নেতৃত্বাধীন একটি রাজনৈতিক দল সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এতে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় জোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তার দল লিকুদ পার্টি এককভাবে সর্বোচ্চ আসন পেলেও জোটের পক্ষে সরকার গঠনের মতো আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে তার।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটের বৈঠকের কথা রয়েছে। এর আগে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছেন হারজগ। বুধবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে আলাদাভাবে দুই নেতার সঙ্গে বসার কথা তার।
এদিকে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দুটি দলের একটি এই রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর জোটের সহযোগী ছিল। তবে এবার সরকার গঠনের প্রশ্নে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
অন্যদিকে আইজেনকট এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ওই দলগুলোর একটি তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। দিনের শেষ দিকে দ্বিতীয় দলটিও একই অবস্থান নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন জোট সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।
সূত্র: রয়টার্স














মন্তব্যসমূহ