ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের ছিল। ইসরায়েল কেবল ওয়াশিংটনের সামরিক উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানন বলেন, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন নিয়েছে। তাই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি কিংবা অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাবের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এটি আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছি এবং মনে করি, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
ইসরায়েলকে সবকিছুর জন্য দায়ী করার প্রবণতার সমালোচনা করে ড্যানন আরও বলেন, ‘সবকিছুর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা সব সময়ই খুব সহজ। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়।’
এদিকে ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির দুর্বল ফলাফলের পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রভাবও দেশটির রাজনীতিতে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করতে পারেন কি না, যেখানে ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড্যানন বলেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না ইসরায়েল।
তার ভাষায়, ‘আমাদের সুরক্ষার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, আমরা সব সময় তা-ই করব।’
জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসে এ নিয়ে চাপ বাড়লেও ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জোটকে সমর্থন করা অনেক ভোটার ইরান যুদ্ধের কারণে দলটির প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন।
একজন জনমত জরিপকারীর তথ্য উল্লেখ করে ভ্যান্স জানান, ভোটাররা যুদ্ধের অবসান চান। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের পরিবর্তনও তাদের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে।
ভ্যান্স লেখেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেও গত রাতে এ কথা বলেছেন।’
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয় এবং দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ভ্যান্স আরও লেখেন, ‘কেন আমরা হেরেছি, তা সবাই জানেন। এখন থেকে আমাদের পথচলা নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনা শুরু করতে হবে এই বিষয়টি দিয়েই।’
সূত্র: এবিপি লাইভ।














মন্তব্যসমূহ