সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো চিঠিতে দলটি জানিয়েছে, সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2356]জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির একটি অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে জামায়াত।গত ২২ জুলাই দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এদিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ বা স্পিকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শুনে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।[BANGVIEWS-POST:2354]সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে একই বিধান সরাসরি প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের দাবি, দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার সুযোগ নেই।ফলে তার আসন শূন্য হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।