হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবার মান উন্নয়নে ওয়াক্ফ সম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর আওকাফ।
রোববার (৮ নভেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদনে জানানো হয়, জেদ্দায় আয়োজিত ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে সংস্থাটি। ৮ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জেদ্দা সুপারডোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন। সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এর আয়োজন করেছে।
সম্মেলনস্থলে জেনারেল অথরিটি ফর আওকাফের জন্য বিশেষ প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে। সেখানে হজযাত্রীদের কল্যাণে সংস্থাটির নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ওয়াক্ফ প্রতিষ্ঠাতাদের নির্ধারিত শর্ত মেনে সম্পদ ব্যবহারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে।
সংস্থাটি এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যেগুলো সরাসরি হজযাত্রীদের উপকারে আসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এ উদ্দেশ্যে সম্মেলন চলাকালে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব চুক্তির মাধ্যমে ওয়াক্ফ সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে এর অর্থ ব্যয়ের দক্ষতা বাড়াতে চায় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবে ওয়াক্ফ খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতের অর্থ দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা জেনারেল অথরিটি ফর আওকাফের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। হজ সম্মেলনে সংস্থাটির অংশগ্রহণের ফলে ধর্মীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হজযাত্রীদের সেবামূলক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইসলামি আইন অনুযায়ী ওয়াক্ফ হলো কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে স্থায়ীভাবে বের করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধর্মীয়, সৎ কিংবা জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসর্গ করা। এ ধরনের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন করা যায় না। বরং সম্পত্তির ব্যবহার বা তা থেকে অর্জিত আয় স্থায়ীভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।
সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি














মন্তব্যসমূহ