ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে পরিবর্তন

২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে পরিবর্তন
ফাইল ছবি
ফলো করুন

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শেখার প্রয়োজন বিবেচনায় আরও কার্যকর ও শিশুবান্ধব শিক্ষাক্রম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে বিদ্যালয়ভেদে পাঠদানের সময়ের পার্থক্য কমানোর পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের পাঠ ও শিক্ষা উপকরণ সহজবোধ্য, বিজ্ঞানসম্মত এবং বয়সোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিশুদের কাছে পড়াশোনা আনন্দদায়ক করে তুলতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণীয় খেলনা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো আরও সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান বাড়াতে ডিজিটাল কনটেন্ট, ব্যবহারিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোকে এর আওতায় আনতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীকে দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হবে।

খাবারের মান ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মায়েদের নিয়ে গঠিত ‘মাদার্স কমিটি’ তদারকি করছে। পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এ কাজে গুগলসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের দেওয়া ট্যাব কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে কোনো বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ হচ্ছে কি না কিংবা কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

দেশের দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎবিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগও রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি, এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও শিশুদের প্রয়োজন বিবেচনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করার পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

ট্যাগ : প্রাথমিক শিক্ষা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
রবিবার৮
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫১ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৪ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৮ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম, প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শেখার প্রয়োজন বিবেচনায় আরও কার্যকর ও শিশুবান্ধব শিক্ষাক্রম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে বিদ্যালয়ভেদে পাঠদানের সময়ের পার্থক্য কমানোর পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের পাঠ ও শিক্ষা উপকরণ সহজবোধ্য, বিজ্ঞানসম্মত এবং বয়সোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিশুদের কাছে পড়াশোনা আনন্দদায়ক করে তুলতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণীয় খেলনা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো আরও সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান বাড়াতে ডিজিটাল কনটেন্ট, ব্যবহারিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোকে এর আওতায় আনতে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীকে দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হবে।

খাবারের মান ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মায়েদের নিয়ে গঠিত ‘মাদার্স কমিটি’ তদারকি করছে। পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এ কাজে গুগলসহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের দেওয়া ট্যাব কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে কোনো বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ হচ্ছে কি না কিংবা কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

দেশের দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎবিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য সৌরবিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগও রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কিংবা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি, এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও শিশুদের প্রয়োজন বিবেচনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করার পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ