বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিক্ষকদের আরও উন্নতমানের গবেষণায় মনোযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে আয়োজিত ৪৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে।
বিশ্ব এখন একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য উন্নতমানের গবেষণার বিকল্প নেই। এ কারণে শিক্ষকদের গবেষণামুখী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বিশেষ করে পাঠদান, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। তবে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এআই ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আনন্দদায়ক করে তুলতে কাজ করছে। এই উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষকদেরও শ্রেণিকক্ষে আনন্দময় পরিবেশে পাঠদান করতে হবে।
পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণার মান বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী।














মন্তব্যসমূহ