ঢাকা    সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৩ মাস ২৭ দিনে রাজশাহী রেঞ্জে আশিক সাঈদের কর্মতৎপরতা

অপরাধ দমন, পুলিশ কল্যাণ ও জননিরাপত্তায় নানা উদ্যোগ

ফলো করুন

রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হিসেবে ৩ মাস ২৭ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম। ২০২৬ সালের ১১ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেঞ্জের নেতৃত্ব দেন। মোট ১১৯ দিন অতিবাহিত হয়; দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তরের তারিখসহ ১২০টি ক্যালেন্ডার দিন। এই সময়ে অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ প্রশাসনের তদারকি, সদস্যদের কল্যাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দেন আশিক সাঈদ। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। অপরাধ দমন ও মাদক প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রেঞ্জের অধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ১১ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদানের পর রেঞ্জ কার্যালয়ের পদ্মা সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পর্যালোচনা ও তদারকির অংশ হিসেবে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ১০ আগস্ট জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় রেঞ্জাধীন জেলাগুলোর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটন, মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে জুন ও জুলাই মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করেন।

মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা থানা দ্বিবার্ষিক পরিদর্শন করেন। এ সময় থানার গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পরিদর্শন শেষে থানা প্রাঙ্গণে একটি ফলদ গাছের চারাও রোপণ করেন।

২২ জুলাই রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সে অধিবেশন পরিচালনা করেন তিনি। সেখানে খাসজমি উদ্ধারে রাজস্ব প্রশাসনকে পুলিশ বিভাগের সহায়তা এবং সরকারি জমি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখা, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে পুলিশ ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণেও উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। ৩০ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচিতে নিজ কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গণে সহধর্মিণী ও পুনাকের রাজশাহী রেঞ্জের উপদেষ্টা শামীম আরা হকের সঙ্গে চারটি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেন আশিক সাঈদ। ২০ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক পরিদর্শন প্যারেডে সালামি গ্রহণ করেন। পরে রিজার্ভ অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নথিপত্র পরিদর্শন করেন এবং বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও বক্তব্য শোনেন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

২২ আগস্ট বগুড়া জেলা সফরে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বগুড়া পুলিশ লাইন্সের নবনির্মিত রেশন স্টোর ভবন উদ্বোধন করেন। একই দিন বগুড়া পুলিশ হাসপাতালে নতুন সংযোজিত আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতেও উদ্যোগী ছিলেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও পুলিশি সেবাসংক্রান্ত বিষয় শোনেন। সাধারণ মানুষ যাতে আইনি সেবা পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় না দেওয়ার কথা জানান। এ সময় সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় ১২ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় রেঞ্জাধীন জেলাগুলোর অপরাধ পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের অগ্রগতি, মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত ও মানসম্মত তদন্ত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পূজামণ্ডপের সুরক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহী রেঞ্জের আট জেলায় সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে ৫ হাজার ৪৭৪ জন পুলিশ সদস্য, ৬৬৯টি টহল দল এবং দুটি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) দায়িত্ব পালন করে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমেও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেঞ্জের আট জেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএমকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। একই দিনে আরআরএফ, রাজশাহীর বার্ষিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে সালামি গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, মানবিক আচরণ এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া ২৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সের দ্বিতীয় পর্যায়ে রিসোর্স পারসন হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। খাসজমি উদ্ধারে রাজস্ব প্রশাসনকে পুলিশ বিভাগের সহায়তা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।

দায়িত্বকালের শেষ পর্যায়েও মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম পরিদর্শন অব্যাহত রাখেন তিনি। ৫ নভেম্বর নওগাঁ জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের বিভিন্ন শাখা, দাপ্তরিক নথিপত্র, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গেও তাঁর পেশাগত সমন্বয় ও যোগাযোগ ছিল। বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় আরএমপি সদর দপ্তরে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। বিদায়ী বক্তব্যে আশিক সাঈদ রাজশাহী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় আরএমপির পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অবশেষে ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম। নবাগত ডিআইজি মীর আশরাফ আলী, পিপিএমের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেন। পরদিন ৮ নভেম্বর তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে ৩ মাস ২৭ দিনের দায়িত্বকালে তাঁর প্রকাশ্যে নথিভুক্ত কার্যক্রমে অপরাধ পর্যালোচনা ও দমন, মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসন পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় উৎসবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। স্বল্প সময়ের এই কর্মকাল শেষে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজশাহী রেঞ্জে তাঁর দায়িত্বপর্বের সমাপ্তি ঘটে।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

আইন ও অপরাধ

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
সোমবার৯
  • ০৯ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫১ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৯ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪০ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৭ বিকাল
  • এশা৬:৩৪ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৮ ভোরইফতার ৫:১৭ বিকাল

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬


৩ মাস ২৭ দিনে রাজশাহী রেঞ্জে আশিক সাঈদের কর্মতৎপরতা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হিসেবে ৩ মাস ২৭ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম। ২০২৬ সালের ১১ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেঞ্জের নেতৃত্ব দেন। মোট ১১৯ দিন অতিবাহিত হয়; দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তরের তারিখসহ ১২০টি ক্যালেন্ডার দিন। এই সময়ে অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ প্রশাসনের তদারকি, সদস্যদের কল্যাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাকে অগ্রাধিকার দেন আশিক সাঈদ। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। অপরাধ দমন ও মাদক প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রেঞ্জের অধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ১১ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদানের পর রেঞ্জ কার্যালয়ের পদ্মা সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পর্যালোচনা ও তদারকির অংশ হিসেবে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ১০ আগস্ট জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় রেঞ্জাধীন জেলাগুলোর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটন, মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে জুন ও জুলাই মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করেন।

মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা থানা দ্বিবার্ষিক পরিদর্শন করেন। এ সময় থানার গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পরিদর্শন শেষে থানা প্রাঙ্গণে একটি ফলদ গাছের চারাও রোপণ করেন।

২২ জুলাই রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সে অধিবেশন পরিচালনা করেন তিনি। সেখানে খাসজমি উদ্ধারে রাজস্ব প্রশাসনকে পুলিশ বিভাগের সহায়তা এবং সরকারি জমি রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখা, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে পুলিশ ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণেও উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। ৩০ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচিতে নিজ কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গণে সহধর্মিণী ও পুনাকের রাজশাহী রেঞ্জের উপদেষ্টা শামীম আরা হকের সঙ্গে চারটি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেন আশিক সাঈদ। ২০ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক পরিদর্শন প্যারেডে সালামি গ্রহণ করেন। পরে রিজার্ভ অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নথিপত্র পরিদর্শন করেন এবং বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও বক্তব্য শোনেন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।

২২ আগস্ট বগুড়া জেলা সফরে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। বগুড়া পুলিশ লাইন্সের নবনির্মিত রেশন স্টোর ভবন উদ্বোধন করেন। একই দিন বগুড়া পুলিশ হাসপাতালে নতুন সংযোজিত আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া বগুড়া জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতেও উদ্যোগী ছিলেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও পুলিশি সেবাসংক্রান্ত বিষয় শোনেন। সাধারণ মানুষ যাতে আইনি সেবা পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় না দেওয়ার কথা জানান। এ সময় সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় ১২ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় রেঞ্জাধীন জেলাগুলোর অপরাধ পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের অগ্রগতি, মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত ও মানসম্মত তদন্ত এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পূজামণ্ডপের সুরক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহী রেঞ্জের আট জেলায় সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে ৫ হাজার ৪৭৪ জন পুলিশ সদস্য, ৬৬৯টি টহল দল এবং দুটি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) দায়িত্ব পালন করে। বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমেও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়। পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেঞ্জের আট জেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএমকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। একই দিনে আরআরএফ, রাজশাহীর বার্ষিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে সালামি গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, মানবিক আচরণ এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

এ ছাড়া ২৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ কোর্সের দ্বিতীয় পর্যায়ে রিসোর্স পারসন হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। খাসজমি উদ্ধারে রাজস্ব প্রশাসনকে পুলিশ বিভাগের সহায়তা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।

দায়িত্বকালের শেষ পর্যায়েও মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম পরিদর্শন অব্যাহত রাখেন তিনি। ৫ নভেম্বর নওগাঁ জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে জেলা পুলিশের রিজার্ভ অফিসের বিভিন্ন শাখা, দাপ্তরিক নথিপত্র, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গেও তাঁর পেশাগত সমন্বয় ও যোগাযোগ ছিল। বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় আরএমপি সদর দপ্তরে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন। বিদায়ী বক্তব্যে আশিক সাঈদ রাজশাহী রেঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় আরএমপির পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অবশেষে ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম। নবাগত ডিআইজি মীর আশরাফ আলী, পিপিএমের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেন। পরদিন ৮ নভেম্বর তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে ৩ মাস ২৭ দিনের দায়িত্বকালে তাঁর প্রকাশ্যে নথিভুক্ত কার্যক্রমে অপরাধ পর্যালোচনা ও দমন, মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসন পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ধর্মীয় উৎসবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। স্বল্প সময়ের এই কর্মকাল শেষে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজশাহী রেঞ্জে তাঁর দায়িত্বপর্বের সমাপ্তি ঘটে।



বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ