জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্ক সফরে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন, অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সফরকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন বৈঠকেও অংশ নেবে বাংলাদেশ।
এসব বৈঠকে দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ঢাকা নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন জটিলতা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনায় সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল এবং দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট পদে পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা সংকটকে এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি বিশেষ সাইডলাইন বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকট, প্রত্যাবাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে দেশের বাইরে নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
সরকার আশা করছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।