ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে। দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের তথ্য জানানো হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে পৌঁছেছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষকপর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাতের ফসল মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের কার্যক্রমও চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদনকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষিতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্র কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ খরচ এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

এ ছাড়া কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষিযন্ত্রের সুবিধা দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে। দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের তথ্য জানানো হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে পৌঁছেছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কৃষকপর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাতের ফসল মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের কার্যক্রমও চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদনকে আরও সহজ ও কার্যকর করতে এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষিতে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। দেশীয় কৃষিযন্ত্রের উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্র কৃষকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থা আরও বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ খরচ এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

এ ছাড়া কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষিযন্ত্রের সুবিধা দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ