আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে একটি বিশেষ মহল দেশে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের যেকোনো অপতৎপরতা রাজনৈতিকভাবেই শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে যেকোনো মূল্যে তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে পোশাক খাতের শ্রমিকদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে কোনো সাধারণ নিরীহ পোশাকশ্রমিক এই সহিংসতা ও নাশকতামূলক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নন; কোনো বৈধ শ্রমিক সংগঠনও জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তিনি জানান, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং তাদের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই মজুরি নির্ধারণ করা হবে।কারখানা মালিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহ্বান জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মালিকপক্ষ যেন কারখানা বন্ধ না রেখে শ্রমিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করে উৎপাদন সচল রাখেন। তিনি বলেন, “আজ হয়তো নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে আশা করি আগামী দিনগুলোতে কারখানা আর বন্ধ থাকবে না।” একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল ও সড়কে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগে দুপুরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তখন তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার আগেই আলোচনা সাপেক্ষে মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও অযৌক্তিক আন্দোলন ও অবরোধ জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।