মুক্তির প্রথম দিনেই দুর্দান্ত ব্যবসা করে আলোচনায় এসেছিল দক্ষিণী তারকা যশ অভিনীত ‘টক্সিক’। তবে শুরুতে পাওয়া সেই সাফল্য বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি সিনেমাটি। দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রভাব পড়ে দ্বিতীয় দিন থেকেই, এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে বক্স অফিস আয়।
প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির প্রদর্শন এখন প্রায় শেষের পথে। এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ‘টক্সিক’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। তবে ছবিটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভারতের বাজারে সিনেমাটি মোট ২৬৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে হিন্দি বলয় থেকে এসেছে প্রায় ১৪৯ কোটি রুপি। কর্ণাটকে আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ২৯ কোটি, তামিলনাড়ুতে ১১ কোটি ৫০ লাখ এবং কেরালায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি।
বিদেশের বাজার থেকে সিনেমাটির আয় হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ফলে সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতে প্রায় ১১২ কোটি রুপি আয় করে শক্তিশালী সূচনা করেছিল ‘টক্সিক’। কিন্তু দ্বিতীয় দিন থেকে ব্যবসায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়। সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে আয় আরও কমে যায়।
বর্ধিত প্রথম সপ্তাহ শেষে ভারতে ছবিটির সংগ্রহ ছিল প্রায় ২৫৬ কোটি রুপি। এরপর দ্বিতীয় সপ্তাহেই অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই সপ্তাহে আয় নেমে আসে মাত্র ৯ কোটি রুপিতে। তৃতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে সিনেমাটির আয় ৭৫ লাখ রুপির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার বড় অংশই কর্ণাটকের বাজার থেকে এসেছে।
বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পাশাপাশি সিনেমাটির আর্থিক ক্ষতির হিসাবও বেশ বড় বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘টক্সিক’-এর লোকসান প্রায় ৩০০ কোটি রুপি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসেবে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় আর্থিক ক্ষতির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
মুক্তির আগে যশের জনপ্রিয়তা, সিনেমাটির বড় বাজেট এবং প্রথম দিনের ব্যাপক ব্যবসা ঘিরে ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে ছিল বড় প্রত্যাশা। তবে পরবর্তী সময়ে দর্শকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং দুর্বল বক্স অফিস পারফরম্যান্সের কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।