জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনগতভাবে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রবেশ করা মাত্রই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। সরকারের লক্ষ্য প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে তাঁকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “যাদের সাজা হয়ে গেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে সাজা কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশের মানুষ তা দেখতে চায়।”
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিষ্কার করেছেন। যেহেতু শেখ হাসিনার সাজা হয়ে গেছে, তাই আসামি হিসেবে তাঁর নতুন করে আত্মসমর্পণের কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিনি যখনই দেশে আসবেন, গ্রেপ্তার হবেন। আমাদের লক্ষ্য প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা।”
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে কারাগারে যেতে হবে বলে এর আগেও জানিয়েছিলেন শামা ওবায়েদ। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরাতে নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দিল্লিতে পলাতক হিসেবে অবস্থান করছেন। সেখানে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক স্ট্যাটাস নেই। তাঁর কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি না থাকলে দেশে ফিরতে ছবিযুক্ত পরিচয় বা ভ্রমণসংক্রান্ত প্রমাণপত্র নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, নতুন কোনো দেশ সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দুটি দেশ সফর করে ফিরেছেন। পর্যায়ক্রমে তিনি অন্য দেশগুলোও সফর করবেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না করে তা আরও জটিল করে তোলা হয়েছে। সংকট সমাধানে সরকারি-বেসরকারি এবং কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন চ্যানেলে আলোচনা চলছে।
মন্তব্যসমূহ