ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অনলাইনে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

অনলাইনে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
জাতীয় সংসদ । ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সাইবার স্পেস ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার বা মধ্যস্থতার অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন। তবে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কিংবা সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, প্রস্তাব বা মধ্যস্থতা করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এ ধরনের লেনদেন করা কিংবা লেনদেনের চেষ্টা করলেও একই আইনে বিচার করা যাবে।

এই ধরনের অপরাধ প্রমাণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণের ভিত্তিতেও বিচার করা যাবে।

অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অপরাধটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘটিত হলে অথবা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ডিভাইস, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আদালত বা মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বন্ধ, অপসারণ, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

মাদক মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং মাদক ও চোরাচালান শনাক্তে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের আইনি ভিত্তিও যুক্ত করা হয়েছে।

বিলের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বাড়ায় সাধারণ আদালতে মামলার চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। দ্রুত বিচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ দমনে নতুন বিধানগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে অভিযান জোরদার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে।

গত ২৭ জুন বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত আকারে বিলটি পাস করা হয়।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


অনলাইনে মাদক বেচাকেনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সাইবার স্পেস ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রচার বা মধ্যস্থতার অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন। তবে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কিংবা সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, প্রস্তাব বা মধ্যস্থতা করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এ ধরনের লেনদেন করা কিংবা লেনদেনের চেষ্টা করলেও একই আইনে বিচার করা যাবে।

এই ধরনের অপরাধ প্রমাণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের প্রমাণের ভিত্তিতেও বিচার করা যাবে।

অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

অপরাধটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘটিত হলে অথবা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ডিভাইস, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আদালত বা মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বন্ধ, অপসারণ, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

মাদক মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ এবং মাদক ও চোরাচালান শনাক্তে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের আইনি ভিত্তিও যুক্ত করা হয়েছে।

বিলের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আইনের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বাড়ায় সাধারণ আদালতে মামলার চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। দ্রুত বিচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ দমনে নতুন বিধানগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে অভিযান জোরদার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে।

গত ২৭ জুন বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত আকারে বিলটি পাস করা হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ