টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এসব দাবি ঘোষণা করা হয়। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবিগুলো শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। দেশের বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সবার পক্ষে এসব দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের প্রথম দাবি, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দেশের অনেক জেলা এখনো বন্যাকবলিত। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ বা ব্যাহত রয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। এ অবস্থায় পরীক্ষা চালিয়ে গেলে সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ পাবেন না।
দ্বিতীয় দাবিতে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় দুর্যোগের কারণে অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বৃষ্টি, বন্যা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কেউ পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে তাকে দায়ী করা যায় না। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তৃতীয় দাবিতে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের দুর্যোগ পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সোমবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থীদের হাঁটু বা কোমরসমান পানি, যানজট এবং দুর্যোগপূর্ণ সড়ক পেরিয়ে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেকেই আগেভাগে বাসা থেকে বের হলেও নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।
মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুনায়েদ খান বলেন, তারা পরীক্ষা বাতিলের দাবি করছেন না। দুর্যোগের সময় সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বন্যা, জলাবদ্ধতা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়া উচিত।
মন্তব্যসমূহ