হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সামরিক সক্ষমতা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামো রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দিয়ে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান আবার হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর জবাব দেবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, দুই দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে পাল্টা জবাবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, কুয়েতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাহরাইনে জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েতও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলেছে। কাতারও নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এতে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আপনারা আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পাবেন।’ তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি ইরানের ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির ওপর নয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ অঞ্চলের উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়্যা নিউজ
মন্তব্যসমূহ