ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তিন মাসের সবচেয়ে বড় পতন দেখল ভারতের শেয়ারবাজার

তিন মাসের সবচেয়ে বড় পতন দেখল ভারতের শেয়ারবাজার
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার ভারতের বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ দিন শেষে ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ৬৮০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়।

গত তিন মাসের মধ্যে এটি ছিল ভারতের দুই প্রধান সূচকের সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তেলের দামের এই উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি করে।

এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের দিকে এগোয়। এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডের দাম কমে যাওয়ায় বেঞ্চমার্ক বন্ডের ফলন ৭ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ৭৬৯২ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের মূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারও ভারতীয় শেয়ার বিক্রি শুরু করতে পারেন। এতে বাজার পুনরুদ্ধারের গতি আরও ধীর হতে পারে।

এদিন আর্থিক খাতের শেয়ার ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের ১৬টি প্রধান খাতই লোকসানে ছিল। স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান, রং প্রস্তুতকারী কোম্পানি, বিমান পরিবহন সংস্থা এবং টায়ার নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ভারত শেয়ার বাজার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


তিন মাসের সবচেয়ে বড় পতন দেখল ভারতের শেয়ারবাজার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার ভারতের বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ দিন শেষে ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ৬৮০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়।

গত তিন মাসের মধ্যে এটি ছিল ভারতের দুই প্রধান সূচকের সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তেলের দামের এই উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি করে।

এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের দিকে এগোয়। এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।

ভারতীয় রুপির মান ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে সরকারি বন্ডের দাম কমে যাওয়ায় বেঞ্চমার্ক বন্ডের ফলন ৭ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ৭৬৯২ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ তৈরি করে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের মূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারও ভারতীয় শেয়ার বিক্রি শুরু করতে পারেন। এতে বাজার পুনরুদ্ধারের গতি আরও ধীর হতে পারে।

এদিন আর্থিক খাতের শেয়ার ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের ১৬টি প্রধান খাতই লোকসানে ছিল। স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান, রং প্রস্তুতকারী কোম্পানি, বিমান পরিবহন সংস্থা এবং টায়ার নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ