হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় নতুন দফায় আরও প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, নতুন দফার হামলায় ইরানের উপকূলরেখা বরাবর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের যে সক্ষমতা রয়েছে, তা কমিয়ে আনা এবং ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।
এর আগের রাতেও ইরানে ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে গত দুই দিনে ইরানে প্রায় ১৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
এদিকে, আগের মার্কিন হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত চারটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি।
তেহরানের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও তাদের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ