যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে রায় দেয়। ওই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আদালত জানায়, এই পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বুধবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমেরিকান নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়।” তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় ভুল এবং দ্রুত নতুন শুনানির আবেদন করবেন।
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী বৈধ মর্যাদায় থাকা বা নথিবিহীন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না।
তবে সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের আদেশ বাতিল হয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির আইনি কর্তৃত্বের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের অধিকার সংবিধানেই নিশ্চিত করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে—আপনি এখানে জন্মালে, আপনি নাগরিক।
অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি সহজ হবে না। কারণ জনমত জরিপে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে শক্ত সমর্থন দেখা যায়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের মতামত ইঙ্গিত করছে, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে।
একটি গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাব কার্যকর হলে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু নাগরিকত্ব ছাড়া জন্ম নিতে পারে। ২০৪৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নথিবিহীন মানুষের সংখ্যা আরও ২৭ লাখ বাড়তে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, এতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি বড় সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তৈরি হবে।
সুপ্রিম কোর্ট সাধারণত রায় ঘোষণার পর একই মামলায় নতুন শুনানির আবেদন খুব কমই গ্রহণ করে। তাই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ