ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের রায় ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা। ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি প্রমাণিত হওয়ার পরও ক্লাবের সমর্থকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
রায় প্রকাশের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গার্দিওলা লিখেছিলেন, ‘আমি চাই ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিটি সমর্থক জানুক, আমি এখানে আছি; আগের চেয়েও বেশি।’
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর এই গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো ইতিহাস স্টেডিয়ামে ফিরতে পারেন গার্দিওলা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হলে গ্যালারিতে তাকে দেখা যেতে পারে।
ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতা ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের নাম কলঙ্কমুক্ত করার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গার্দিওলার সম্ভাব্য স্টেডিয়াম উপস্থিতিকে ক্লাবটির প্রতি তার আরেক দফা সংহতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল, কঠিন সময়ে ক্লাবের ‘নিজেদের মানুষদের সঙ্গে’ থাকতে চান গার্দিওলা। তার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি দেশীয় ও ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ সময় আধিপত্য বিস্তার করেছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হলেও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে সিটি আত্মবিশ্বাসী। ক্লাবটির দাবি, তাদের পক্ষে ‘অখণ্ডনীয়’ প্রমাণ রয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে দলের কিছু খেলোয়াড়ও উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। শাস্তির পরিমাণ প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার, জরিমানা কিংবা পয়েন্ট কেটে নেওয়া পর্যন্ত হতে পারে।
সিটির হয়ে সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে অধিনায়কত্ব করা কাইল ওয়াকার অবশ্য বুধবার স্বীকার করেছেন, অভিযোগ ও রায়ের কারণে ক্লাবটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রশ্নের মুখে ফেলতে চান না।
বর্তমানে বার্নলিতে খেলা ওয়াকার ‘টকস্পোর্ট’কে বলেন, ‘অবশ্যই বিষয়টি ভালো দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন ‘ব্যক্তিগতভাবে আমরা অনেক বছর ধরে অসংখ্য ট্রফি জয়ের আনন্দ উদযাপন করেছি। যা-ই ঘটুক না কেন, সেটি কেউ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। কারণ আমরা নিজেরাই সেই রাতগুলো উপভোগ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, সেসব ট্রফি সঠিকভাবেই জিতেছি মানুষ আমাদের সেভাবেই দেখুক। বিষয়টি খুব কঠিন, কারণ সেগুলোর জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। শুধু আমরা নই, সমর্থকেরাও। আমি তাদের কথা ভাবি, যারা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। আমরা যখন ট্রেবল জিতেছিলাম, তখন ইস্তাম্বুলে যারা গিয়েছিলেন এমন রাতগুলো পাওয়ার অধিকার তাদের ছিল।’
মন্তব্যসমূহ