ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গার্দিওলা-পরবর্তী ম্যানচেস্টার সিটিতে নতুন অধ্যায়

এক দশক পর পেপ গার্দিওলাকে ছাড়া নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। স্প্যানিশ কোচের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটেছে। গার্দিওলার অধীনে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ একাধিক শিরোপা জিতে ইংলিশ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল সিটি।গার্দিওলার পর দলের দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেস্কা। নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে নিয়ে গড়া শক্তিশালী দলটির দায়িত্ব নেওয়া মারেস্কার জন্য সহজ হবে না। কারণ, তাকে এমন এক কোচের জায়গা পূরণ করতে হচ্ছে, যিনি ইতিহাদে সাফল্যের নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন।৪৬ বছর বয়সী মারেস্কা ম্যানচেস্টার সিটির জন্য অবশ্য পরিচিত মুখ। ক্লাবের ট্রেবল জয়ের মৌসুমে গার্দিওলার কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র কোচ হিসেবেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে ফেরানো এবং চেলসির হয়ে শিরোপা জয়ের সাফল্যই সিটির কর্তাদের তার ওপর আস্থা রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।[BANGVIEWS-POST:3709]মারেস্কাকে নিয়োগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। গার্দিওলার অধীনে গড়ে ওঠা ফুটবল দর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চায়নি সিটি। পজিশনাল প্লে, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত নমনীয়তার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে একই ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন মারেস্কা।বল দখলের ক্ষেত্রে সিটির পরিচিত ধাঁচ ধরে রাখার সম্ভাবনা থাকলেও নতুন কোচকে নিজের কৌশলগত পরিচয় তৈরি করতে হবে। তার হাতে রয়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড। আর্লিং হালান্ডও দলের গোলের অন্যতম প্রধান ভরসা। গত চার মৌসুমের মধ্যে তিনবার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।মিডফিল্ডে রদ্রিই সিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। নিখুঁত পাসিং, সঠিক অবস্থান নেওয়া এবং রক্ষণাত্মক দক্ষতার কারণে তিনি দলের মাঝমাঠের মূল ভরসা হয়ে আছেন। বার্সেলোনার আগ্রহ থাকলেও তাকে ঘিরে সিটির পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী করতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে প্রায় ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে সিটি। তার আগমনে মাঝমাঠে গতি, বল দখলের সক্ষমতা এবং স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।দলে রায়ান চেরকি ও নিকো ও'রাইলির মতো তরুণ প্রতিভাও রয়েছেন। তাদের উপস্থিতি স্কোয়াডে নতুন উদ্যম যোগ করতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের খেলোয়াড় বার্নার্ডো সিলভা ও জন স্টোনসের বিদায়ে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের জায়গায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে দুটি কাপ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের পেছনে থেকে রানার্স-আপ হয়েছিল সিটি। গার্দিওলার তৈরি উচ্চমানের সঙ্গে তুলনা করলে এই ফলাফলকে তার সময়ের শেষটা কিছুটা হতাশাজনক হিসেবেই দেখা হয়েছে।এ কারণে মারেস্কার সামনে চ্যালেঞ্জটাও বড়। শুধু দলের খেলার ধরন কিংবা কৌশল দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা হবে না; বরং শুরু থেকেই শিরোপার লড়াইয়ে সিটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রাখার প্রত্যাশা থাকবে তার ওপর।গার্দিওলার দীর্ঘ সময়ের প্রভাবের কারণে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কৌশলের পাশাপাশি দলের সংস্কৃতি ও মানসিকতাতেও গার্দিওলার প্রভাব ছিল ব্যাপক।[BANGVIEWS-POST:3708]সিটির পরিবেশ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় মারেস্কার দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করা এবং নিজে একটি বড় প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই পার্থক্য সামলে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে তার অন্যতম বড় পরীক্ষা।বিশ্বকাপের ব্যস্ততার কারণে কয়েকজন খেলোয়াড় দেরিতে দলে ফিরলেও নতুন মৌসুমে প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই সিটি শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে। গার্দিওলার প্রতিষ্ঠিত ধারার সঙ্গে নতুনত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে মারেস্কা যদি দলটিতে সতেজতা আনতে পারেন, তাহলে ম্যানচেস্টার সিটি দ্রুতই ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারে।আগামী ২৩ আগস্ট মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের মাঠে বোর্নমাউথের বিপক্ষে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি।

গার্দিওলা-পরবর্তী ম্যানচেস্টার সিটিতে নতুন অধ্যায়