ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় ওঠার কারণ জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর এবং অন্যান্য খরচ হিসাব করার পরও কীভাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান মন্ত্রী।

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।”

ব্যবসায়ীরা সভায় জানান, সরবরাহের ঘাটতি মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাদের দেওয়া হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়েছেন। ফল পচনশীল হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বড় আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এসব বক্তব্য শোনার পর মাল্টা আমদানির শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস খুঁজে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে ব্যবসায়ীদের বলেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

সেখানে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, খেজুরের মান ও গ্রেড অনুযায়ী প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্কায়নের সময় তা সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্যের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতায় খেজুর দেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই যথাসময়ে পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, এনবিআরের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাল্টা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় ওঠার কারণ জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর এবং অন্যান্য খরচ হিসাব করার পরও কীভাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান মন্ত্রী।

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।”

ব্যবসায়ীরা সভায় জানান, সরবরাহের ঘাটতি মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাদের দেওয়া হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়েছেন। ফল পচনশীল হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বড় আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এসব বক্তব্য শোনার পর মাল্টা আমদানির শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস খুঁজে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে ব্যবসায়ীদের বলেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

সেখানে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, খেজুরের মান ও গ্রেড অনুযায়ী প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্কায়নের সময় তা সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্যের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতায় খেজুর দেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই যথাসময়ে পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, এনবিআরের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ