গবেষণা শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট বয়স, ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কিংবা বড় ল্যাবরেটরির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তার মতে, চারপাশের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে সমাধান খোঁজার মধ্য দিয়েই গবেষণার যাত্রা শুরু হতে পারে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজিত খুদে গবেষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুরু করতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের আশপাশের সমস্যা নিয়ে খুদে গবেষকদের কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
তার মতে, সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তাশক্তি ও সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করেছে। গবেষণার ক্ষেত্রে সাহস, উদ্দীপনা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। শুধু সমস্যা শনাক্ত নয়, তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করার সক্ষমতাকেও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে গত পাঁচ দশকের গবেষণা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মামুন বলেন, সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গবেষণায় বিপুল অর্থায়ন করেছে। অনেক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং গবেষকেরা সাইটেশনও পেয়েছেন। কিন্তু এর পরও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি।
দেশের যানজট, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও লবণাক্ততার মতো বাস্তব সমস্যার উদাহরণ দিয়ে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান বের করতে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। আজকের খুদে গবেষকদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিজ্ঞানী তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা মোট ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া।
মন্তব্যসমূহ