বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আমদানিকৃত কার্গো থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ ও আমদানি ব্যবস্থাপনা সংস্থা পেট্রোবাংলাকে। ফলে দেশের সার্বিক গ্যাস প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টার উপাত্ত অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে পুনঃগ্যাসিকৃত এলএনজি বা আরএলএনজির দৈনিক সরবরাহ ছিল ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর সঙ্গে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০১ এমএমসিএফডি।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য খাতের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভাসমান টার্মিনালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় কমে গেছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
গ্যাস সরবরাহে এই ধরনের ব্যাঘাত দীর্ঘায়িত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমানে সরবরাহ ঘাটতির কারণে কোন কোন খাতে কী মাত্রায় প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাগরের পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততম সময়ে জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে