আগামী ১৮ নভেম্বর শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। সরকারি ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বাদে প্রতিদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্পিকারকে।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
এ অধিবেশনে আলোচনার জন্য জমা পড়েছে মোট ৩ হাজার ৭৫১টি প্রশ্ন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তর দেওয়ার জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিশ জমা পড়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, চতুর্থ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর থেকে চতুর্থ অধিবেশনের আগে তিনটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এগুলো হলো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬। অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ এলাকাকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব দিলে উপস্থিত সদস্যরা তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সংসদের অধিবেশন চলার সময় প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। ফলে চাহিদা পূরণের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রেখেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেন।
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া জানান, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নতুন সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ই-পার্লামেন্ট কার্যক্রম এবং সংসদ সচিবালয়ের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের অগ্রগতিও তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া বৈঠকে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।














মন্তব্যসমূহ