রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো বক্তব্য নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে আগেই জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে তার সঙ্গে দলটির কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত গত ২২ জুলাই সাংগঠনিক তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরদিন তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় দলটি।
তবে দল থেকে বহিষ্কারের পরও তার সংসদ সদস্য পদ এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
শিশির মনিরও সাংবাদিকদের বলেন, গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।
এদিকে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন শিশির মনির। রাজনৈতিক ও আইনি সংকট সমাধানে ব্যক্তিগত অবস্থান বা জেদের পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষ্য, সাময়িক সংশোধনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো প্রয়োজন।
নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের কাজ শেষ করার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। তার দাবি, আগে মীমাংসিত বিষয়গুলো নতুন করে বিতর্কিত না করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত।