চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্দুল ওয়াজেদ, আনোয়ারুল আমিন রাসেল, মো. রাশেদ ও মো. এরশাদ রয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় জড়ো হন ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে তারা সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন।
পদযাত্রাটি সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সামনে এগোতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের প্রধান দাবি, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবারও নিজ নিজ পদে ফিরিয়ে নিতে হবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইসলামী ব্যাংকে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় নোটিশ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তারা জানান, নিজেদের দাবি তুলে ধরে এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তবে সমস্যার প্রত্যাশিত সমাধান না হওয়ায় ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত হন।
পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। চাকরিতে পুনর্বহালকে প্রধান দাবি হিসেবে সামনে রেখে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।