দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং সামনেও সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখছেন না কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের সার সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিকে স্বাবলম্বী করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা আতিক উদ্দিনের গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত এবং বিলবৈটা এলাকায় উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলীর বাগান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সারের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে ফসলের আবাদ বেড়েছে। প্রায় সব জমিতেই ধান দেখা যাচ্ছে। ধান কাটার পর পরবর্তী ফসল চাষের জন্য সারের প্রয়োজন হবে, তবে সেটি আরও ২৫ দিন থেকে এক মাস পরের বিষয়। এ অবস্থায় এখনই সারের সংকট তৈরির কারণ দেখছেন না তিনি।
সরকারের কৃষিনীতি সম্পর্কে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, জনগণ ও কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষিকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষিপণ্য রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করা হবে।
এদিকে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা অনুসরণ করে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা কর্মকর্তাদের।
উপজেলা কর্মকর্তাদের পাঠানো তিনজনের নামের তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে; কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তবে কোথাও নীতিমালার বাইরে গিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসা জঙ্গি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলামসহ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা।














মন্তব্যসমূহ