বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিক্ষা, সমুদ্র অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়: দ্বিতীয় রাউন্ডটেবিল’-এর একটি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশটি বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জনসংখ্যাকে কার্যকর মানবসম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ কর্মক্ষম। এই জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দেওয়া গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা খাতে ব্যয় পর্যায়ক্রমে জিডিপির ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি দেশটির পলিটেকনিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর বিভিন্ন দিকের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি।
সমুদ্র অর্থনীতি নিয়েও দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন এহছানুল হক মিলন। স্যাটেলাইট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও গবেষণা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সমুদ্র অর্থনীতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে চীনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাজে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।