ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ন্যাটোকে ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে জোটটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরান।
বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে জোটটির সম্পৃক্ততার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা পর্যাপ্ত সমর্থন দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট দাবি করেন, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শত শত যুদ্ধবিমান ইরানে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে অংশ নিয়েছে।
রুটের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক মিত্র দেশ তাদের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, ইতালিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে প্রায় ৫০০ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে অভিযানে সহায়তা করেছে। এছাড়া রোমানিয়া তাদের বিমানবন্দরগুলোতে ট্যাংকার সুবিধা ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল সীমিত করেছিল।
ন্যাটো প্রধানের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধে ন্যাটোর সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রমাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যতামূলক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে ন্যাটো মহাসচিবের মন্তব্যের পর ইতালি দ্রুত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রুটের বক্তব্য অনুমোদিত ফ্লাইটের ধরন সম্পর্কে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ধারণা’ সৃষ্টি করেছে।
ইতালির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় তারা শুধুমাত্র ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তাসংক্রান্ত মার্কিন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল। সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ন্যাটোর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন