দেশের দুই জেলায় ২৬ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকার ধামরাইয়ে পরপর দুই রাতে দুটি এবং খাগড়াছড়িতে একটি বাস পুড়ে গেছে। একই সময়ে রাজধানীর মিরপুরেও একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। খাগড়াছড়িতে বিআরটিসির বাসে আগুন লাগার সময় ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন চালক। আগুনের কারণে তাঁর ঘুম ভেঙে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
ধামরাইয়ে প্রথম অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে। থানা রোডে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে মেরামতের জন্য রাখা পাভেল পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট রাত সোয়া ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ২৬ মিনিটে একই উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় স্কয়ার হাসপাতালের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পল্লী সেবা পরিবহনের আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটির মালিক ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
ঘটনাগুলো সম্পর্কে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, এগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়িতে শনিবার ভোর ৪টার দিকে বিআরটিসির একটি বাসে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই গাড়িটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল।
বিআরটিসির টিকিট কাউন্টারের বিক্রয়কর্মী বিদ্যুৎ চাকমা জানান, ভোর ৪টার দিকে ফোনে বাসে আগুন লাগার খবর পান তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি পুড়ে যেতে দেখেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি কায় কিসলু জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাসটির চালক ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে এটি পরিকল্পিত নাশকতা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
এদিকে, রাজধানীর মিরপুরেও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১২ নম্বরে পল্লবী মেট্রোস্টেশনের নিচে এ ঘটনা ঘটে।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসটিতে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এতে বাসটির দুটি আসন পুড়ে গেছে। ঘটনার সময় গাড়িটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না।
ধামরাই, খাগড়াছড়ি ও মিরপুরের ঘটনাগুলোর পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এসব অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।














মন্তব্যসমূহ