যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্বের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নির্দেশ এলে তারা পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ কথা জানান।
মোহেব্বি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক নীতিতে যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন রূপরেখা প্রণয়নের একক এখতিয়ার দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী অবস্থান বা ঘোষিত নীতি থেকে সরাসরি সরে এসেছে। তিনি নীতিতে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এমন ঘোষণা দেননি এবং পরিবর্তন ঘটলে নতুন ডকট্রিনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কী হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাঈও ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিলেন যে দেশটির বিদ্যমান পারমাণবিক নীতিতে কিছু কৌশলগত পরিবর্তনের বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সে সময় তিনিও স্পষ্ট করেছিলেন যে এ বিষয়ে তখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। হোসেইন মোহেব্বির সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত মহসেন রেজাঈর ওই পূর্ববর্তী মূল্যায়নেরই ধারাবাহিকতা বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, তেহরান বরাবরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাবি করে এসেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং গণবিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সামরিক পরিকল্পনা তাদের নেই।
সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি














মন্তব্যসমূহ