সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপের হুমকি দেওয়ায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবুধাবির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ লোহিত সাগরে জাহাজের অবাধ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করবে।
এক বিবৃতিতে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনসংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরান থেকে আসা একটি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
তবে হুথিরা হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদির আবহা অঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে গোষ্ঠীটি।
এরপর সৌদি আরবের বন্দর ব্যবহারকারী এবং দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নৌ-অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেয় হুথিরা। তাদের ভাষ্য, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের বিধিনিষেধের জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হুথি কর্তৃপক্ষ জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করা জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব হুথিদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রিয়াদের দাবি, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে তিন শতাধিক জাহাজ হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি বন্দরে প্রবেশ করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সৌদি জাহাজ ও সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জোটটি।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। হুথিদের হুমকি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা