ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুতিদের হামলার পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের ইঙ্গিত পাকিস্তানের

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।তিনি বলেছেন, সৌদি আরব এবং দেশটির পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ।তার এই বক্তব্যের আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইয়েমেনের হুতিদের উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কার দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্রের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে।খাজা আসিফ বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য এবং প্রয়োজন হলে ইসলামাবাদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। তবে সামরিক পরিকল্পনা বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করা হবে না বলেও জানান তিনি।সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির নিরাপত্তা এবং দুই পবিত্র মসজিদের সুরক্ষা পাকিস্তানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে সম্মিলিত নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চুক্তির বিভিন্ন দিক বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন। একই সময়ে কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়নি বলেও জানানো হয়েছিল।ইরানের কাছে সৌদির উদ্বেগের বার্তাখাজা আসিফ আরও জানান, হুতিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের বিষয়টি পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ইরান নতুন করে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করতে চাইবে না। কারণ দেশটি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত। তবে ইরান এবং বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে একইভাবে বিবেচনা না করার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সরাসরি নির্দেশ বা অনুমোদন ছাড়াও নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাখাজা আসিফ বলেন, সংঘাত যাতে নতুন এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো রয়েছে।এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সংঘাত তীব্র হওয়ায় বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলার কারণে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তবে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা চুক্তির সামরিক বাস্তবায়নের বিস্তারিত প্রকাশ না করার অবস্থান বজায় রেখেছেন।

হুতিদের হামলার পর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরের ইঙ্গিত পাকিস্তানের