‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা শেষে সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।
বৈঠকে বিলটির বিভিন্ন আইনি, কারিগরি ও আর্থিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে তা পর্যালোচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের কথা বলা হয়েছে। ধারাটি নিয়ে সমালোচনা ছিল, কারণ এর মাধ্যমে রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আওতায় আসা কোনো ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বা মালিকদের নির্দিষ্ট শর্তে আবারও মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারত।
বিলের উদ্দেশ্য হলো সংকটে পড়া বা পুনর্গঠনের আওতায় আসা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা কাঠামো আরও কঠোর করা এবং আগের মালিক বা পরিচালকদের পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা।
কমিটির বৈঠকে সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং সৈয়দ জয়নুল আবেদীন অংশ নেন।
বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পর বিলটি এখন সংশোধিত আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে। সংসদের অনুমোদন পেলে সংশোধিত বিধান আইনে পরিণত হবে।